বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবসহ এ জোটের মোট সদস্য সংখ্যা ১৪।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে গঠিত এ জোটের লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলোর মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই জলপথগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন এই জোট গঠনের ঘোষণা এসেছে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দীর্ঘদিন হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলার কারণে বাব আল-মান্দেব, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর হয়ে চলাচলকারী নৌপথও বারবার নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও বৈঠকে উপস্থিত ছিল।
বর্তমানে ইইউর লোহিত সাগরে অ্যাসপিডিস নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন পরিচালিত হচ্ছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে ওই মিশনের পার্থক্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।
একই ধরনের সামুদ্রিক নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এ জোটে যোগ দেয়নি।
সৌদি আরব জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এ জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে সদস্য দেশগুলো একটি যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে কে কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা
জ/শা