ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তার অভিযোগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা এ হামলা চালিয়েছেন। ঘটনার পর ইতালির পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছেছেন তিনি। এবার এ ঘটনায় থানায় গিয়ে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বাঁধন বলেন, তিনি ভালো আছেন। একই সঙ্গে বিপদের সময় যারা তার খোঁজ নিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বাঁধন বলেন, ‘আমার সঙ্গে গতকাল যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া যারা, তারা সেটি করেছেন। সেই জায়গা থেকে প্রচুর মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন আমি কেমন আছি, কোথায় আছি, কীভাবে আছি। আমি ঠিক আছি কি না। আমি শুধু আপনাদের সবাইকে এটা বলতে চাই, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।’
নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি এবং সেটা করতে ভুলেও যাইনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ না। এখানকার পুলিশ অনেক হেল্প করেছে। গতকাল রাতে আমাকে একটি নিরাপদ জায়গায় তারা পৌঁছে দিয়েছে।’
এরপর বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের যে এম্বাসি আছে, বাংলাদেশ এম্বাসি থেকে অ্যাম্বাসেডর সাহেব, যিনি আছেন, উনি আমাকে ফোন করেছেন। এবং উনার অফিস থেকে লোক আসছে। উনাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’
হামলার ঘটনায় তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বাঁধনের ভাষ্য, ‘যেহেতু আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা অলরেডি অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাঁধন। বিপদের সময়ে দেশ-বিদেশের যেসব মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বাঁধন বলেন, ‘আমি মনে করি যে আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। সেটার জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসা।’
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিজের অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। যেটা আমি মনে করি, আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। এবং আমি একজন গর্বিত জুলাই যোদ্ধা।’
হামলার সময় তার ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর হয়রানি ও হামলার বিষয়টিও উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র আমি, আমার ভাই এবং তার পরিবার, তার ছোট বাচ্চা তার যেভাবে হ্যারাসড হয়েছে, সেটার জন্য মারাত্মকভাবে আপসেট। আমার জন্য আমার ছোট ভাই, তার ওয়াইফ এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড হয়েছে, সেটা ন্যক্কারজনক।’
সবশেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বাঁধন বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’
জ/উ