গয়নার একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। ভাই-বোনের ভালোবাসা ও সুরক্ষার বন্ধনকে কেন্দ্র করে তৈরি বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর কৃতির পোশাক এবং পোষ্য কুকুরকে রক্ষাবন্ধন উদযাপনের অংশ করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
বিজ্ঞাপনে ভাইয়ের সঙ্গে রক্ষাবন্ধন উদযাপন করতে দেখা যায় কৃতিকে। প্রথমে তিনি ভাইয়ের হাতে ঐতিহ্যবাহী রাখি পরিয়ে দেন। এরপর একইভাবে নিজের পোষ্য কুকুরের প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পোষ্য প্রাণীকে পরিবারের সদস্য হিসেবে তুলে ধরাই ছিল বিজ্ঞাপনের অন্যতম ভাবনা। তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এতে ভাইয়ের তুলনায় কুকুরটির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী কৃতির পোশাকের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, রক্ষাবন্ধনের মতো উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীকে ‘অল্প পোশাক’-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোষ্য কুকুরের জন্য রাখি আনার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। ওই ব্যবহারকারীর দাবি, এ ধরনের উপস্থাপনা রক্ষাবন্ধনের চেতনাকে ‘নষ্ট এবং অসম্মান’ করছে।
আরেক ব্যবহারকারী আরও কঠোর ভাষায় কৃতির সমালোচনা করে লেখেন, ‘মানুষের উচিত তাকে নিষিদ্ধ করা।’ একই সঙ্গে ভারতীয় উৎসবগুলোকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্র্যান্ডগুলো কেন এভাবে উপস্থাপন করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি অন্য ধর্মীয় উৎসবের উপস্থাপনার সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের তুলনাও করেন ওই ব্যবহারকারী।
তবে বিজ্ঞাপনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অনেকে। এক ব্যবহারকারীর মতে, রক্ষাবন্ধন কেবল ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসা, সুরক্ষা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে পরিবারের পোষ্য প্রাণীর প্রতিও একই অনুভূতি প্রকাশ করা যেতে পারে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি মহাভারতের যুধিষ্ঠির ও তাঁর বিশ্বস্ত কুকুরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
কৃতির পোশাক নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলাদা করে বিতর্ক হয়েছে। এক ব্যবহারকারী সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি রক্ষাবন্ধনে এমন পোশাক পরেন?’ অন্য একজনের মত, আরও সাধারণ ও রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হলে তা উৎসবের আবহ ও আবেগের সঙ্গে বেশি মানানসই হতো।
অন্যদিকে, কৃতির ভক্তদের একটি অংশ অভিনেত্রীর পক্ষ নিয়েছেন। তাঁদের যুক্তি, রক্ষাবন্ধনের মূল বার্তা ভালোবাসা, যত্ন ও সুরক্ষা। পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত পোষ্যকে রাখি পরালে উৎসবটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব কমে যায় না।
এক ভক্ত কৃতির ব্যক্তিগত পছন্দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে লেখেন, এটি তাঁর উৎসব এবং নিজের মতো করে তা উদযাপন করার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে। আরেকজন সবাইকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘শান্ত হোন’। তাঁর মতে, কৃতির পোশাক বা পোষ্যকে রাখি পরানোর বিষয় নিয়ে আলোচনার চেয়ে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মানুষের ভাবা উচিত।
জ/উ