শাড়ি নিয়ে ফেসবুকে প্রমোশনের পোস্ট না করে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। জামিনের পর আদালতে প্রাঙ্গণে তানজিন তিশা বলেন, ‘আমার ১৫ বছরের ক্যারিয়ার। একটি শাড়ির জন্য আদালতে আসবো কাম্য নয়।’
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। বিচারক আদেশে বলেন, আসামি যেহেতু একজন নারী, শাড়ির টাকা কম ও মডেল বিবেচনায় তাকে মামলার আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করা হলো।
শুনানি শেষে তানজিন তিশা সাংবাদিকদের বলেন, আদালতকে সম্মান করি বলেই, আমি এখানে এসেছি। আশা করব আমি সামনেও ন্যায়বিচার পাবো। ন্যায়বিচার পাবো। আমার অনেক সম্মানহানি হয়েছে। আমি একটা কথা বলতে চাই। আজকে যিনি আমার নামে এই কাজটা করেছে, আমাকে হ্যারাজ করার জন্য, তিনিও একজন নারী। তিনি এবং তার স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সাথে এটা করেছে। আমাকে অনেক ধরনের হুমকিও দিয়েছে। সেগুলো আমি সামনে হয়তো আপনাদের জানাবো।
অভিনেত্রী আরও বলেন, আরেকটা কথা বলতে চাই, আজকে সাতাশ হাজার টাকার একটা শাড়ির জন্য আমাকে আদালতে আসতে হলো। আমি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার পনেরো বছরের ক্যারিয়ার। এটা আসলে কারোরই কাম্য না যে, আমি একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো, তাই না?
তিনি আরও বলেন, আর কেউ যাতে এভাবে কাউকে হ্যারেজ না করে। আমি যাতে আইনে ন্যায়বিচার পাই। এটাই আমার চাওয়া।
গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইনভিত্তিক ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। তবে পরে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ ঘটনায় পেজটির প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করেন।
মামলার পর আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সম্প্রতি ডিবির জমা দেওয়া এই প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে সমন জারি করে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।
জ/শা