গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা পানি পান করলে গর্ভের শিশুর ক্ষতি হয়-এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মা যে পানি পান করেন, তা শরীরে শোষিত হয়ে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পৌঁছানোর পরই রক্তসঞ্চালনের মাধ্যমে প্ল্যাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণের কাছে যায়। ফলে ঠান্ডা পানির তাপমাত্রা সরাসরি শিশুর ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গর্ভের শিশুকে ঘিরে থাকা অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (গর্ভজল) একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। এটি শিশুর জন্য স্থিতিশীল ও নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং মায়ের শরীরের সামান্য তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব শোষণ করে নেয়।
তাদের পরামর্শ, ঠান্ডা, স্বাভাবিক বা কুসুম গরম-যে তাপমাত্রার পানিই পান করা হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা। পর্যাপ্ত পানি সুস্থ রক্তসঞ্চালন বজায় রাখা, অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা ঠিক রাখা, ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা, মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও ক্লান্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২১ সালের একটি গবেষণা, যা ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে অনেক নারী প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থার প্রতিটি ত্রৈমাসিকে পানির চাহিদা ভিন্ন হতে পারে। তাই সেই অনুযায়ী পানি পানের অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জ/উ