কম ক্যালোরিতে বেশি প্রোটিন পেতে চাইলে মুরগির বুকের মাংস ডিমের তুলনায় বেশি কার্যকর বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম ও মুরগির মাংস-দুটিই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং প্রত্যেকটির আলাদা পুষ্টিগুণ রয়েছে।
ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম রান্না করা চামড়াবিহীন মুরগির বুকের মাংসে রয়েছে ৩১ গ্রাম প্রোটিন, ১৬৫ ক্যালোরি ও ৩.৬ গ্রাম ফ্যাট। একই পরিমাণ সেদ্ধ ডিমে রয়েছে ১২.৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৫৫ ক্যালোরি ও ১০.৬ গ্রাম ফ্যাট। অর্থাৎ ক্যালোরির পার্থক্য কম হলেও মুরগির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি এবং ফ্যাট তুলনামূলক কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশি গঠন, ওজন নিয়ন্ত্রণ বা কম ক্যালোরিতে বেশি প্রোটিন গ্রহণের লক্ষ্য থাকলে মুরগির বুকের মাংস ভালো বিকল্প। এতে নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩), ভিটামিন বি৬, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক পর্যালোচনায়ও উল্লেখ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রোটিন তৃপ্তি বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে ডিমে প্রোটিন তুলনামূলক কম হলেও এতে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি১২ এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক। নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
পুষ্টিবিদদের মতে, কোন খাবারটি বেশি উপযোগী হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির পুষ্টিগত চাহিদার ওপর। বেশি প্রোটিনের জন্য মুরগির বুকের মাংস এগিয়ে থাকলেও, ডিম বহুমাত্রিক পুষ্টিগুণের কারণে সুষম খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান ধরে রেখেছে। তাই প্রতিযোগী হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক খাবার হিসেবে ডিম ও মুরগির মাংস-উভয়কেই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
জ/উ