জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-08-22T08:46:55+06:00
2026-08-22T08:46:55+06:00
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
বাংলা English
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
Advertisement
জাতীয়
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, বেতন ও সরকারি সুবিধা?
জবাবদিহি ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ এএম 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হয়েছেন এবং গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) বঙ্গভবনে শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলেও সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। তবে সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে।

মাসিক বেতন ও সরকারি সুবিধা
দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা আয়করমুক্ত। ২০১৬ সালে সর্বশেষ বেতন বাড়ানো হয়। এর আগে মাসিক বেতন ছিল ৬১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া আপ্যায়নের জন্য বার্ষিক ভাতার ব্যবস্থাও রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। সরকারি দায়িত্ব পালনে গাড়ি ও পরিবহন সুবিধার পাশাপাশি বিদেশ সফরে নির্ধারিত হারে ভাতা পান তিনি।

রাষ্ট্রপতির জন্য বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দিতে রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় এ অর্থ ব্যয় করা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশের যেকোনো হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পান। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করে। এ ছাড়া বিমানভ্রমণের জন্য বছরে ২৭ লাখ টাকা সুবিধা রয়েছে, যা ২০১৬ সালের আগে ছিল ১৫ লাখ টাকা।

যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা
সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সাধারণত সেই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ও পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত রাখেন। রাষ্ট্রপতি কোনো বিষয় মন্ত্রিসভার বিবেচনার জন্য পাঠাতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কী পরামর্শ দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আদালত তদন্ত করতে পারে না।

দণ্ড মওকুফের ক্ষমতা
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন। এটি রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা।

দায়মুক্তি ও অপসারণ
কার্যকাল চলাকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালতের পরোয়ানাও জারি করা যায় না।

তবে রাষ্ট্রপতি অভিশংসনের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অপসারণ করা যায়। শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও অপসারণের বিধান রয়েছে। অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করতে সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘটনা। ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি পদত্যাগ করেন।

মেয়াদ ও যোগ্যতা
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারেন। আবদুল হামিদ বাংলাদেশের ইতিহাসে পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হয় এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হয়। তবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আগে সংসদ সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। অভিশংসনের মাধ্যমে আগে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অপসারিত ব্যক্তি পুনরায় এ পদে আসতে পারেন না।

কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যায়।

রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান নন
সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও সরকারপ্রধান নন। সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ফলে সংসদে কোনো দলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে। তবে ঝুলন্ত সংসদ বা কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে সরকার গঠনে তার সাংবিধানিক ভূমিকা বাড়ে।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতির পদ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ হলেও সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, দণ্ড মওকুফসহ কিছু ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সরকারি বাসভবন, গাড়ি-পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, বিমানভ্রমণ, আপ্যায়ন এবং স্বেচ্ছাধীন তহবিলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান।

জ/উ






Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয় - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]