মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত কমে যাওয়ার তথ্যও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ১৫ ডলার বা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭৩ ডলার বা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ৯৯ ডলারে ওঠে। এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল, যা ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন ছিল।
আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনার পর বাজারে নতুন করে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে বুধবার সকালে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথ হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় ওমানের প্রস্তাবিত যৌথ পরিচালনা পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
ডিবিএস ব্যাংকের শক্তি গবেষণা বিভাগের প্রধান সুভ্রো সরকার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে আপাতত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে, আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩৩ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
জ/উ