আন্তর্জাতিক বাজারে টানা কমছে স্বর্ণের দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রভাবে ৭ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জানিয়েছে, স্পট গোল্ডের দাম আরও ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৭১ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০.৫ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৮৭ ডলারে নেমেছে।
এর আগে বুধবার প্রথমবারের মতো নভেম্বর ২০২৫-এর পর স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর ফেড আরও তিন দফা সুদের হার বাড়াতে পারে-এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জোরালো হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৬৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত উচ্চ সুদের হার স্বর্ণবাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় পাওয়া যায় না। ফলে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে সুদবাহী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে স্বর্ণের বাজার এখন স্পষ্টভাবে নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যে রয়েছে। ডলার সূচক ১৩ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি থাকায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৬ দশমিক ৬১ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৬০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বর ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দামও ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬৩ ডলারে নেমেছে।
জ/উ