যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ১৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে দেশ

নিউজ ডেস্ক

অর্থনীতি

2026-03-11T09:59:51+06:00
2026-03-11T09:59:51+06:00
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইপেপার  বাংলা English
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Advertisement
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ১৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে দেশ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম 
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ১৩২৭ কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে দেশ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হলে সরকারের রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক পণ্যে শুল্ক কমানো বা শূন্য করার ফলে সরকারের শুল্ক আয়ের একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর বাংলাদেশ প্রায় ১০৮ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা শুল্ক আদায় করেছে। আমদানির ধরন একই থাকলে ভবিষ্যতে কমপক্ষে এই পরিমাণ রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিডি।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সুপারিশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করেছে। এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০ ধরনের পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা ডব্লিউটিওর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এর ফলে ডব্লিউটিওর আওতাভুক্ত অন্যান্য দেশকেও একই সুবিধা দিতে বাধ্য হতে পারে বাংলাদেশ। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ৫৯ দশমিক ৪ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে। যা অসম্ভব। কারণ এখন পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

কর বাড়ানোর আগে রাজস্ব ব্যবস্থার ফাঁক বন্ধ জরুরি জানিয়ে ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,  জনগণ যে পরিমাণ কর দেন তার বড় একটি অংশ নানা লিকেজের কারণে সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না। কর ফাঁকি রোধ, প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ভ্যাটসহ বিভিন্ন উৎস থেকে কর আদায়ে যে ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে পারলে নতুন করে করের হার বাড়ানোর প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। তাই কর বাড়ানোর আগে রাজস্ব ব্যবস্থার ফাঁক বন্ধ জরুরি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম স্থানীয় বাজারে কতটুকু প্রতিফলিত হবে, সে ব্যাপারে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি উপাদান রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মুনাফার বাইরেও জ্বালানির ওপর দেশে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে সরকার এই কর কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পায়।

জ/দি






Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি - আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: [email protected] , [email protected]