লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং কনর এস্টারহুইজেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে দারুণ লড়াই করেও জয়ের খুব কাছে গিয়ে থামতে হলো স্বাগতিক নামিবিয়াকে। ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২১৭ রান করে তারা। ফলে ১১ রানে জয় পেয়ে সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ও কনর এস্টারহুইজেন। প্রথম উইকেট জুটিতেই মাত্র ৭০ বলে ১৫৬ রান যোগ করেন তারা।
এস্টারহুইজেন মাত্র ৪০ বলে ৮৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৬টি চার ও ৮টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ২২০। অন্যদিকে আরও ভয়ংকর ছিলেন প্রিটোরিয়াস। ৫৩ বলে ১০১ রান করেন তিনি। ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ১৯০.৫৬।
১১.৩ ওভারে দলীয় ১৫৬ রানে এস্টারহুইজেনকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন জান বাল্ট। এরপর ১৩.১ ওভারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ৩ রান করে বাল্টের দ্বিতীয় শিকার হন। ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭২ রান।
এরপর রুবিন হারম্যান ২১ বলে ২৬ রান করে দলের স্কোর আরও বাড়ান। ১৮.৩ ওভারে রুবেন ট্রাম্পেলম্যানের বলে তার বিদায়ের সময় দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ২১৩। শেষদিকে এথান বশ ও জর্ডান হারম্যান অপরাজিত থেকে দলকে ২২৮ রানে পৌঁছে দেন। শেষ ওভারে ১ রান করে প্রিটোরিয়াস আউট হলেও তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
নামিবিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জান বাল্ট। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিনি নেন ২ উইকেট। জেরহার্ড এরাসমাস ৩ ওভারে ২৮ রান দিয়ে একটি এবং রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে নামিবিয়ার বোলাররা প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।
২২৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমেও আক্রমণাত্মক শুরু করে নামিবিয়া। লরেন স্টেইনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিঙ্ক প্রথম উইকেটেই যোগ করেন ১১৯ রান। মাত্র ৬.১ ওভারে ৬৭ রান তুলে পাওয়ারপ্লে শেষ করে তারা কোনো উইকেট না হারিয়েই।
ফ্রাইলিঙ্ক ছিলেন সবচেয়ে আগ্রাসী। মাত্র ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ১০.৫ ওভারে আন্দিলে সিমেলানের বলে আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৭২ রান করেন ফ্রাইলিঙ্ক। তার বিদায়ের সময় নামিবিয়ার স্কোর ছিল ১১৯।
অন্য প্রান্তে স্টেইনক্যাম্পও রান তোলার গতি ধরে রাখেন। ৩৭ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটার ৪৪ বলে ৬১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। ১৫.৬ ওভারে নামিবিয়ার স্কোর ১৬৭ হলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।
ফ্রাইলিঙ্কের বিদায়ের পর অধিনায়ক জেরহার্ড এরাসমাস দলকে জয়ের পথে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি ২৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। জেজে স্মিট ৪ বলে ৯ রান করে ফিরে গেলেও পরে রুবেন ট্রাম্পেলম্যান দ্রুত রান তুলে নামিবিয়ার আশা জিইয়ে রাখেন। তিনি ১০ বলে ২১ রান করেন, যেখানে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা।
১৮.৪ ওভারে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে নামিবিয়া। শেষদিকে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল দ্রুত রান। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ ধরে রাখতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৭ রানেই থামে নামিবিয়ার ইনিংস। ফলে ১১ রানের জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে নকোবানি মোকোয়েনা ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আন্দিলে সিমেলান ২ ওভারে ২৮ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। নকোয়ামিজি পিটার ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। কুয়েনা মাফাকা ৪ ওভারে ৩৮ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি। এথান বশও ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।
জ/উ