বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাব ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, বিষয়টি নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ বা ফুটবল ‘বিক্রি করে দেওয়ার’ কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। তাদের অধীন ৫৫টি সদস্য দেশ একযোগে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার না করা হলে তারা বিশ্বকাপ বর্জনের পথেও যেতে পারে।
একই অবস্থান নিয়েছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ। সংস্থাটির ৪১টি সদস্য দেশও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে উয়েফা ও কনকাকাফ মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৯৬টি সদস্য দেশ পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে জুরিখে অবস্থিত ফিফা সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তবে সব সদস্য দেশ যেন সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দিতে পারে, সে জন্য উন্মুক্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিফা আরও বলেছে, ফুটবল বা বিশ্বকাপ বিক্রি করে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। এমন ধারণাকে ফিফা কখনো সমর্থন করে না।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান গঠনের চিন্তা করছে সংস্থাটি। এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিভিন্ন বেসরকারি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থন প্রয়োজন। এরই মধ্যে উয়েফা ও কনকাকাফভুক্ত ৯৬টি দেশ বিরোধিতা করায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ফিফা তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সদস্য দেশগুলোর উদ্বেগ ও মতামতকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংস্থার দাবি, এফএফই গঠনের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের সব অঞ্চলের ফুটবলে বাণিজ্যিক সুফল আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া। এতে ফুটবলের মৌলিক চেতনা বা পরিচালনা ব্যবস্থায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে ফিফা আশা প্রকাশ করেছে।
জ/শা