যেসব বিষয় প্রিয় ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর

ইসলাম ও জীবন

কোনো বিষয়ের প্রতি ‘ইজাব’-এর অর্থ হলো, সেটিকে পছন্দ করা, ভালো লাগা ও তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু বিষয় পছন্দ করতেন।

2026-10-09T07:43:04+06:00
2026-10-09T07:43:04+06:00
শনিবার ● ১০ অক্টোবর ২০২৬,
২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
ইসলাম ও জীবন
যেসব বিষয় প্রিয় ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর
⏲ ৭:৪৩ এএম | ৯ অক্টোবর, ২০২৬ | শুক্রবার
সংগৃহীত ছবি
কোনো বিষয়ের প্রতি ‘ইজাব’-এর অর্থ হলো, সেটিকে পছন্দ করা, ভালো লাগা ও তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু বিষয় পছন্দ করতেন।

একজন মুসলিমের জন্য সেগুলো সম্পর্কে জানা উচিত, যাতে সে নিজেকে সেসব কাজে অভ্যস্ত করতে পারে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণকারী হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) যেসব বিষয় পছন্দ করতেন, তার মধ্যে আছে—

ডান দিক থেকে শুরু করা : আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) তাঁর জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন এবং তাঁর সব কাজে ডান দিক থেকে শুরু করাকে পছন্দ করতেন। (বুখারি, হাদিস : ৫৩৮০)

অর্থাৎ জুতা পরার সময় ডান পা দিয়ে শুরু করা এবং চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রেও ডান দিককে অগ্রাধিকার দেওয়া।

সুন্নাহতে যেসব ক্ষেত্রে ডান দিককে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা এসেছে, তার মধ্যে আছে ডান কাতে ঘুমানো, জুতা পরা, পোশাক পরা মসজিদে প্রবেশ করা, পায়খানা থেকে বের হওয়া, খাবার খাওয়া, পানীয় পান করা, কোনো কিছু গ্রহণ করা, কাউকে কোনো কিছু দেওয়া ইত্যাদি।

সুন্দর ও ভালো স্বপ্ন : আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুন্দর স্বপ্ন পছন্দ করতেন। (সহিহুল জামি, হাদিস : ২১৩৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নেক ও সুন্দর স্বপ্ন পছন্দ করতেন। কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হতে পারে। সুন্দর ও নেক স্বপ্ন সুসংবাদের অন্তর্ভুক্ত।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নবুয়তের আর কিছু অবশিষ্ট নেই, তবে সুসংবাদসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, সুসংবাদসমূহ কী?

তিনি বললেন, সুন্দর স্বপ্ন। (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

যে ব্যক্তি কোনো সুন্দর স্বপ্ন দেখবে, তার উচিত এর জন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা:

স্বপ্ন দেখে আনন্দিত ও আশাবাদী হওয়া: আর তা যাকে ভালোবাসে অথবা যে তার কল্যাণ কামনা করে, এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে বর্ণনা না করা। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন এমন কোনো স্বপ্ন দেখে যা সে পছন্দ করে, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতএব সে যেন এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা অন্যের কাছে বর্ণনা করে। (সহিহ বুখারি)

শুভ লক্ষণ ও ভালো কথা : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সংক্রামক রোগ নিজে নিজে ছড়ানোর কোনো ক্ষমতা নেই এবং কুসংস্কারও নেই; তবে আমি শুভ লক্ষণ পছন্দ করি।

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, শুভ লক্ষণ কী? তিনি বলেন, সুন্দর কথা। (বুখারি, হাদিস : ৫৭৭৬)

অর্থাৎ ইসলাম অমূলক কুসংস্কারকে সমর্থন করে না। তবে কোনো ভালো কথা শুনে আশাবাদী হওয়া এবং আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা পছন্দনীয়।

সুগন্ধি ও সুন্দর ঘ্রাণ : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য কালো পশমের একটি জুব্বা তৈরি করেছিলেন। তিনি তা পরলেন। যখন তাঁর শরীরে ঘাম হলো, তখন পশমের গন্ধ তিনি অনুভব করলেন। ফলে তিনি সেটি খুলে ফেললেন। আর তিনি সুন্দর সুগন্ধ পছন্দ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪০৭৪)

কদু বা লাউ : আনাস (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে কদু পছন্দ করতে দেখেছি। এরপর থেকে নবী (সা.)-কে কদু পছন্দ করতে দেখার পর আমিও কদু পছন্দ করতে শুরু করেছি। (বুখারি, হাদিস : ৫৪২০)

ঠাণ্ডা মিষ্টি পানীয় : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঠাণ্ডা ও মিষ্টি পানীয় পছন্দ করতেন। (সহিহুল জামি, হাদিস : ২১৩৪)

বকরির সামনের পায়ের মাংস : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বকরির সামনের পায়ের মাংস পছন্দ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৭৮১)

অর্থাৎ বকরির সামনের পায়ের অংশের মাংস তাঁর কাছে পছন্দনীয় ছিল।

মিষ্টি খাবার ও মধু : আয়েশা (রা.) বলেন, নবী (সা.) মিষ্টি খাবার ও মধু পছন্দ করতেন। (বুখারি ও মুসলিম)

দুপুরের সূর্য ঢলে যাওয়ার সময় শত্রুর মুখোমুখি হওয়া : আবু আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য ঢলে যাওয়ার সময় শত্রুর মুখোমুখি হতে পছন্দ করতেন। [তাবারানি, আলবানি (রহ.) হাদিসটি সহিহ বলেছেন]

এটি যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। অর্থাৎ যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পছন্দের একটি সময় ছিল সূর্য ঢলে যাওয়ার পর।

হাতে খেজুরের শুকনা ডাল/গুচ্ছ রাখা : আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) খেজুরের ডাল বা গুচ্ছ হাতে ধরে রাখতে পছন্দ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮০)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের এসব ছোট ছোট পছন্দও সাহাবায়ে কেরাম গভীরভাবে লক্ষ করতেন। তাঁরা শুধু তাঁর বড় বড় ইবাদত ও আমলই অনুসরণ করেননি; বরং খাবার, পানীয়, পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং ছোট ছোট আদবের ক্ষেত্রেও তাঁর অনুসরণ করেছেন। এটাই প্রকৃত আনুগত্য।

জ/শা


  বিষয়:   ইসলাম ও জীবন 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
সর্বাধিক পঠিত
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত