চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা ‘স্থবির’ ছিল—নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বন্দরের প্রকৃত সক্ষমতা, আয়, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং দেশীয় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও দক্ষ জনশক্তির শ্রম ও অভিজ্ঞতায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম সচল রয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, সমুদ্রবন্দরের সতর্ক সংকেতসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।
নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে আধুনিকায়নের অজুহাতে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে তারা মনে করেন। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শ্রমিকস্বার্থ, রাজস্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নের দাবি জানান তারা।
তাদের দাবি, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা আরও বলেন, বন্দরের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। অতীত বা বর্তমান কোনো সিদ্ধান্তই জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে হওয়া উচিত নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিমুদ্দিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি তপন দত্ত, ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন এবং বন্দর লেসিং-আনলেসিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেনসহ বন্দর মার্চেন্ট ইউনিয়নের নেতারা।
জ/উ