দিনভর কাজের ব্যস্ততায় বিকেলের দিকে শরীরে ক্লান্তি অনুভব করা স্বাভাবিক। এ সময় অনেকেই দ্রুত শক্তি পেতে কফি, এনার্জি ড্রিংক বা ক্যান্ডি বারের ওপর নির্ভর করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাবার সাময়িকভাবে শক্তি দিলেও পরে হঠাৎ এনার্জি কমে গিয়ে আরও বেশি ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। এর বদলে কয়েকটি প্রাকৃতিক অভ্যাস দীর্ঘসময় সতেজ থাকতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের শুরুতে পুষ্টিকর নাশতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ওটসের মতো উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
ক্লান্তি কমাতে পছন্দের গান শোনা বা গুনগুন করে গাওয়াও উপকারী হতে পারে। এতে মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা হ্রাস পেতে পারে, যা মন ও শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি হলে ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করার পাশাপাশি পানি সমৃদ্ধ ফল ও অন্যান্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া কাঠবাদাম বা চিনাবাদামের মতো ম্যাগনেসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার শক্তি উৎপাদনে সহায়ক। এসব পুষ্টির ঘাটতি থাকলে অবসাদ ও ক্লান্তি বাড়তে পারে।
দারুচিনি বা পুদিনা পাতার সুগন্ধও সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। হালকা গরম পানিতে এগুলো ফুটিয়ে পান করলে ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
প্রাকৃতিক আলোও শরীর ও মনের জন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোদেলা দিনে কিছু সময় বাইরে হাঁটাহাঁটি বা অন্তত জানালা খুলে সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করতে দিলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও মানসিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
এ ছাড়া ইতিবাচক মনোভাবের বন্ধু বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোও মানসিক ক্লান্তি দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিবাচক পরিবেশ ও আন্তরিক আড্ডা শরীর-মনকে চাঙা রাখতে সহায়ক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ/উ