ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলাধুলা

একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ছিল নিয়মিত ঘটনা। টানা ১৯ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারানোর কৃতিত্বও ছিল বাংলাদেশের। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে দুই দলের লড়াইয়ের চিত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

2026-10-18T08:33:12+06:00
2026-10-18T08:33:12+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
খেলাধুলা
ব্যাটিং বিপর্যয়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হার বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক
⏲ ৮:৩৩ এএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জয় ছিল নিয়মিত ঘটনা। টানা ১৯ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারানোর কৃতিত্বও ছিল বাংলাদেশের। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে দুই দলের লড়াইয়ের চিত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩.৪ ওভারে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

রান তাড়ায় শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফেরায় দ্রুত চাপে পড়ে বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্য অতিক্রম করতে যে ধৈর্য, কার্যকর জুটি ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং প্রয়োজন, তার কোনোটিই সেভাবে দেখাতে পারেনি দলটি।

শুরুতে অবশ্য বাংলাদেশের ব্যাটিং পুরোপুরি হতাশাজনক ছিল না। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার যোগ করেন ৪৭ রান। ১৭ বলে ৯ রান করে সৌম্য ফিরলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৪৬ রান করে তিনিও আউট হন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৪ রান। ফলে ৬৮ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় ইনিংস সামাল দেওয়ার দায়িত্ব ছিল অভিজ্ঞ ও মাঝের সারির ব্যাটারদের ওপর। কিন্তু কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় করেন ১৩ রান। সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দলকে বড় কোনো সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিতে পারেননি। ১১২ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় আরও বাড়ে।

এরপর নুরুল হাসান সোহান, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৬ রানও দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

এর আগে বল হাতে দারুণ সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও তাফাদজওয়া সিগাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তাসকিন। তখন মনে হচ্ছিল, বড় সংগ্রহ গড়ার আগেই জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দিতে পারবে বাংলাদেশ।

কিন্তু ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের জুটি ম্যাচের গতিপথ পাল্টে দেয়। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করেন ১৫০ রান। তাঁদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের বোলাররা দীর্ঘ সময় উইকেটের দেখা পাননি। ৮১ রান করে টেলর আউট হলেও এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন আরভিন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র সাত রান দূরে থাকতে শরিফুল ইসলামের বলে ৯৩ রানে থামে তাঁর ইনিংস।

শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরির অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন তিনটি উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান পান দুটি করে উইকেট, আর রিশাদ হোসেন নেন একটি। শুরুতে ভালো বোলিং করলেও মাঝের ওভারগুলোতে টেলর-আরভিনের জুটি ভাঙতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে।

একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। টানা ১৯ ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের লড়াইয়ে ব্যবধান কমেছে। ২০২৫ সালে সিলেটে টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে দলটি। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিল জিম্বাবুয়ে।

এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভালো করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের এমন ভঙ্গুর চিত্র দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে যেভাবে একের পর এক উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, তা ছিল হতাশাজনক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে আগামী বুধবার শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে পারলে শুক্রবার একই মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে নামার সুযোগ পাবে দলটি। তবে তার আগে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি। কারণ ওয়ানডে ক্রিকেটে আফগানিস্তানও এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।

জ/শা


  বিষয়:   বাংলাদেশ  জিম্বাবুয়  ক্ৰিকেট  ওয়ানডে সিরিজ 


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত