কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল তাজমিনকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নিহত তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চায়নি পুলিশ।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, ‘হত্যার মোটিভ অনেকটাই স্পষ্ট। অটোরিকশাচালক সুমন বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মোবাইলের কললিস্ট পর্যালোচনায় তথ্য পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।’
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত পাওয়া গেছে। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক সুমন গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। গভীর রাতে তাকে একা পেয়ে চালক সুমন শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে অটোরিকশা চালাতে থাকেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় বাবার কাছে লাইভ লোকেশন পাঠায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দেয়। অটোরিকশাটি বিজরা হয়ে রসুলপুর ও শিকারীপাড়া দিয়ে জগতপুরের একটি ধানখেতে যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ধানখেতে পালানোর চেষ্টা করেও রক্ষা পায়নি তাজমিন। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর বিদ্যালয়ে যায়নি।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা রিজিয়নে চাকরি করেন। পরিবারটি কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়।
ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার্তা দেয় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সেই বার্তা দেখতে পাননি। পরে সকালে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ/শা