তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপ গাজা, বিপর্যস্ত জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

তিন বছরের যুদ্ধে গাজার চিত্র আমূল বদলে গেছে। ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। নিশ্চিহ্ন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও পাড়া-মহল্লা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অবকাঠামো ও জরুরি সেবায়। একই সঙ্গে থমকে গেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

2026-10-08T10:20:24+06:00
2026-10-08T10:20:24+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
তিন বছরের যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপ গাজা, বিপর্যস্ত জনজীবন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১০:২০ এএম | ৮ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
তিন বছরের যুদ্ধে গাজার চিত্র আমূল বদলে গেছে। ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। নিশ্চিহ্ন হয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও পাড়া-মহল্লা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অবকাঠামো ও জরুরি সেবায়। একই সঙ্গে থমকে গেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন বছরের সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ২৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। বারবার এলাকা ছাড়ার নির্দেশ জারি হওয়ায় অগণিত মানুষ গৃহহীন হয়েছেন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও গাজাবাসীর দুর্ভোগ পুরোপুরি থামেনি। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় আরও ১ হাজার ৪৬২ জন নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধের কারণে পানি, বিদ্যুৎ, খাবার, আশ্রয় ও যোগাযোগের মতো মৌলিক সেবাগুলো গভীর সংকটে পড়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জরুরি আশ্রয় ও গৃহস্থালি সহায়তা প্রয়োজন ছিল। বাড়িঘর হারানো বা উচ্ছেদের শিকার হয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ তাঁবু কিংবা অস্থায়ী আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

পানির সংকটও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগস্টের শুরুতে গাজার ৯১ শতাংশ পরিবার মাঝারি থেকে তীব্র পানির নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ছিল। বিদ্যুতের কেন্দ্রীয় গ্রিড কার্যত অচল হয়ে পড়ায় হাসপাতাল ও বাসাবাড়িকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সংকট থাকায় এই ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতিও প্রায় ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে গাজার ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। ২০২৫ সালে গাজার মাথাপিছু জিডিপি কমে ২১২ ডলারে নেমে আসে।

শিক্ষাব্যবস্থাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, গাজার প্রায় ৯৮ শতাংশ স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৭ লাখ শিশু টানা তিন বছর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রায় ২ লাখ শিশুর কোনো ধরনের শিক্ষায় প্রবেশাধিকারও নেই।

চিকিৎসাব্যবস্থার পরিস্থিতিও সংকটজনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের সবকটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে। কোনো হাসপাতালই পূর্ণ সক্ষমতায় সেবা দিতে পারছে না। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জ্বালানির ঘাটতির কারণে জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘ সংঘাতে গাজার ভৌগোলিক চিত্রও বদলে গেছে। ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই ছোট একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছেন। একটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার হিসাবে, সেপ্টেম্বরের মধ্যে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর ফলে ২০ লাখের বেশি মানুষ গাজার ৩০ শতাংশেরও কম এলাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাবে গাজার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে অপহরণ, সম্পত্তি দখল ও ত্রাণসামগ্রী লুটপাটের মতো অরাজকতাও বাড়ছে।

তিন বছরের যুদ্ধ শেষে গাজার মানুষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও টিকে থাকা। ঘরবাড়ি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতি হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ তাদের জন্য এখনো অনিশ্চিত।

জ/শা


  বিষয়:   গাজা  ইসরায়েল  যুদ্ধ  ধ্বংসস্তূপ  বিপর্যস্ত জনজীবন 


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত