পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তুলনামূলক লঘু শাস্তি দিয়েছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে ২১৫ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে আকস্মিকভাবে দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় আল নাসরের ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বহাল রেখেছে ফেডারেশনের শৃঙ্খলা পরিষদ। রায়ে বলা হয়েছে, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে ফেডারেশনের বিধির ১৬০(১) ধারা লঙ্ঘন করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২ অক্টোবর। ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচের আগের দিন হঠাৎ নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে কোপেনহেগেনে দলের আবাসন ছেড়ে চলে যান রোনালদো। নতুন প্রধান কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধই এ ঘটনার মূল কারণ বলে জানা গেছে।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি রোনালদো। পরে তিনি জানতে পারেন, ডেনমার্কের বিপক্ষেও শুরুর একাদশে রাখা হবে না তাকে।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ খোলা চিঠি প্রকাশ করেন পর্তুগিজ তারকা। সেখানে জেসুসের বিরুদ্ধে ‘আস্থার চরম লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তোলেন তিনি। রোনালদোর দাবি, দলে তার ভূমিকা নিয়ে কোচ দুইবার দেওয়া কথা রাখেননি। তবে জেসুস এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।
ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর অবশ্য দ্রুতই নিজের ভুল স্বীকার করেন রোনালদো। সতীর্থদের ফেলে চলে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চান তিনি। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রোনালদো স্বীকার করেন, এ ঘটনার জন্য শাস্তি পাওয়া তার প্রাপ্য।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ক্যারিয়ারে ১ হাজার গোল করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের পথও খোলা রেখেছে পর্তুগাল। তাকে ছাড়াই ডেনমার্কের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে দলটি। ম্যাচের পর কোচ জর্জ জেসুস এবং পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, শাস্তির মেয়াদ শেষ হলে রোনালদোকে আবার দলে স্বাগত জানাতে চান তারা।
তবে ফেডারেশনের বিবৃতিতে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার হিসাব কীভাবে করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ৯ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শাস্তির ক্ষেত্রে এর আগে কেটে যাওয়া সময় গণনা করা হবে কি না, সে বিষয়েও পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা নেই। পর্তুগালের পরবর্তী নেশনস লিগ ম্যাচ ১৪ নভেম্বর, প্রতিপক্ষ ডেনমার্ক।
পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক অসাধারণ রেকর্ডের মালিক রোনালদো। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ১৪৬ গোল এবং সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তার দখলে। তার নেতৃত্বে ইউরো ২০১৬ এবং দুটি নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে পর্তুগাল।
জ/উ