ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের মামলায় এজাহারভুক্ত আরও এক আসামিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার নাঈম (২৪) এ মামলার দুই নম্বর আসামি।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) এসআরবি-৯ সদর দপ্তর, সিলেট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার নাঈম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া গ্রামের মোকলেছ মিয়ার ছেলে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার সাত মসজিদ এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সিপিসি-২, বসিলা-মোহাম্মদপুরের একটি যৌথ দল। এ সময় নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া উত্তরপাড়ার নিজ গ্রাম থেকে ওয়াজ মাহফিল শুনতে একই গ্রামের সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় যাচ্ছিল ওই কিশোরী। পথে একই গ্রামের জাকির (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৩৫), আলামিন ওরফে জিকির (৪০) ও বাহার মিয়া (২২) তাকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে গ্রামের লাউহার খালের পাড়সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জাকির, নাঈম ও সোহাগ পালাক্রমে কিশোরীকে ধর্ষণ করে। বাকি তিনজনও ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির পাশে রেখে যাওয়ার সময় কাউকে কিছু জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।
কিশোরীর বাবা জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর তাঁর মেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে স্বজনেরা তাকে চিকিৎসার জন্য সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ অক্টোবর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী স্থানীয়ভাবে বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। বর্তমানে তাঁর মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার নাঈমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, শনিবার রাতে মামলার ছয় নম্বর আসামি বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জ/উ