ইশরাকের ‘ফিল্মি’ অভিযান নিয়ে তাসনিম জারার কড়া সমালোচনা

জবাবদিহি ডেস্ক

অন্যান্য

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন মাদকের আস্তানায় পিস্তল হাতে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর এই অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার সমালোচনা করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

2026-10-18T11:55:19+06:00
2026-10-18T11:55:19+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
অন্যান্য
ইশরাকের ‘ফিল্মি’ অভিযান নিয়ে তাসনিম জারার কড়া সমালোচনা
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ১১:৫৫ এএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন মাদকের আস্তানায় পিস্তল হাতে অভিযান চালিয়ে আলোচনায় এসেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর এই অভিযান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার সমালোচনা করেছেন এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানোর সময় ইশরাক হোসেনকে পিস্তল হাতে সক্রিয় অবস্থায় দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও তিনি নিজেই তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন। এরপর ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়।

শনিবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইশরাকের অভিযানের সমালোচনা করেন তাসনিম জারা।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “অস্ত্র হাতে মানুষকে ধাওয়া করছেন যিনি, তিনি আমাদের সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী। সেই ভিডিও আবার তার নিজের পেজ থেকেই প্রচার করা হচ্ছে।”

তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, প্রকাশ্যে এ ধরনের আচরণ করা একজন ব্যক্তি কীভাবে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। তাঁর মতে, সমাজে যোগ্য ও দায়িত্বশীল মানুষের অভাব নেই; কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সুযোগ অনেকের জন্য সীমিত।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি লেখেন, নতুন কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়াতে হলে শুরুতেই হাজার হাজার মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। বিকল্প হিসেবে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন চাইতে হয়। কিন্তু দলগুলো কাদের এবং কী প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন দেয়, তা মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই দেখে আসছে।

নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাসনিম জারা। তিনি বলেন, মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর একজন প্রার্থীকে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে প্রচার চালাতে হয়। অন্যদিকে, প্রভাবশালী প্রার্থীরা সেই সীমা অতিক্রম করে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও নির্বাচন কমিশন অনেক সময় তা উপেক্ষা করে বলে তাঁর অভিযোগ। ফলে সততার সঙ্গে আইন মেনে নির্বাচন করতে চাওয়া প্রার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।

ভোটের দিনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু বাস্তবে প্রতিপক্ষের পেশিশক্তি মোকাবিলা এবং নিজেদের ভোট রক্ষার দায়িত্বও প্রার্থীদের ওপর এসে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের পক্ষে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়া বৈধ পোলিং এজেন্টদেরও নানা অজুহাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা আরও লেখেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অস্ত্র, পেশিশক্তি, বিপুল অর্থ ও প্রভাব রয়েছে—এমন প্রার্থীরা এগিয়ে থাকেন। এরপরও প্রশ্ন তোলা হয়, যোগ্য মানুষ রাজনীতিতে আসেন না কেন বা ভোটাররা এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন কেন।

তিনি লেখেন, “‘১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা’—এই ব্যবস্থা বজায় রেখে আর কী আশা করবেন?”

তাসনিম জারার মতে, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার না হলে পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিই দেশ শাসন করতে থাকবে।

জ/শা 


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত