পশ্চিম তীরে মার্কিন সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় লেভিনের শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।

2026-10-18T10:06:55+06:00
2026-10-18T10:06:55+06:00
রোববার ● ১৮ অক্টোবর ২০২৬,
২ কার্তিক ১৪৩৩
Advertisement
আন্তর্জাতিক
পশ্চিম তীরে মার্কিন সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
⏲ ১০:০৬ এএম | ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | রোববার
সংগৃহীত ছবি
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মার্কিন ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। এ ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ফিলিস্তিনিও হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় লেভিনের শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন সাংবাদিকের ওপর এ হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও জানান, হামলার বিষয়ে তিনি তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত হননি। তবে এ ঘটনার যেসব ছবি তিনি দেখেছেন, সেগুলো ‘ভালো কিছু মনে হয়নি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলকে ‘কঠোর ব্যবস্থা নিতে’ আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অঞ্চলে কোনো সংঘাত বা সংকট দেখতে চান না।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে ইসরায়েলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা তুলে ধরা হবে বলেও জানান রুবিও। তাঁর ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে আমাদের এমন কিছু প্রয়োজন নেই; ইসরায়েলেরও এমন পরিস্থিতির প্রয়োজন নেই।’

জলপাই সংগ্রহের খবর সংগ্রহের সময় হামলা

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অধিকৃত পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ এলাকার কাছে ফিলিস্তিনিদের বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের ফটোসাংবাদিক হেইডি লেভিন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তাঁর ও কয়েকজন ফিলিস্তিনির ওপর হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা ওই এলাকায় প্রবেশ করে লেভিনকে মারধর করে। এ সময় তাঁর পাসপোর্ট, মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও সাংবাদিকতার সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার বর্ণনা দিয়ে লেভিন বলেন, বোতল ও গুলতি নিয়ে আসা হামলাকারীরা তাঁকে মাটিতে ফেলে প্রায় ১০ মিনিট ধরে লাথি মারেন। এ সময় তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন।

লেভিনের ভাষ্য, শরীরে সুরক্ষাবর্ম ও মাথায় হেলমেট না থাকলে হয়তো তিনি বেঁচে ফিরতে পারতেন না। হামলাকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে লাথি মারতে থাকেন।

৬৪ বছর বয়সী লেভিনকে হামলার পর রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকা থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) তাঁর মেয়ে জানান, হামলায় লেভিনের একটি আঙুল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পরে ওই আঙুলে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ ছাড়া তাঁর একটি পাঁজরের হাড় ও মেরুদণ্ডের একাধিক কশেরুকা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও ক্ষত রয়েছে।

হামলাকারীদের বিচারের দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন নারী আলোকচিত্রীর ওপর আক্রমণ হলো মুখোশধারী কাপুরুষদের দ্বারা সংঘটিত এক জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। নিরস্ত্র সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের বছরের পর বছর কারাগারে থাকা উচিত। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গ্রেপ্তার এবং এ ঘটনায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগে বিচারের দাবি জানিয়েছি।’

তবে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি দাবি করেন, লেভিন ও অন্য ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার জন্য ফিলিস্তিনি অথবা ‘চরম বামপন্থি’ কর্মীরা দায়ী হয়ে থাকতে পারেন।

হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যের পরও মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবি তাঁর বিবৃতিতে হামলাকারীদের সরাসরি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করেননি।

জ/শা 


  বিষয়:   মার্কিন সাংবাদিক  হামলা  গুরুতর আহত 


Advertisement
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত