ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই মাঠে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আক্রান্তদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শনিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে থেমে থাকেননি, নিজেও সাধারণ নাগরিকের মতো রাস্তায় নেমেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারীদের আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি সমস্যাগুলো দেখার চেষ্টা করেছেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমত, রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসক বা হাসপাতালের সরাসরি ভূমিকা সীমিত। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা, বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনও কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, সকালে প্রধানমন্ত্রী কোথায় যাবেন, তা তাঁর সফরসঙ্গীরাও আগে থেকে জানতেন না। অনেকটা আকস্মিকভাবেই তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসাব্যবস্থা, পরিবেশ এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের কার্যক্রম দেখেছেন। সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলো সাত দিনের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি যেসব ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাপনা দেখেছেন, সেগুলোর প্রশংসাও করেছেন।
ডা. এম এ মুহিত আরও বলেন, হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনার মান উন্নত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে মুখোমুখি সংঘাতের পরিবর্তে গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। ব্যবস্থাপনায় ভুলত্রুটি থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে শুধু বিতর্ক না করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বড় বহর, টেলিভিশন ক্যামেরা, প্রটোকল ও বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সীমিতসংখ্যক সফরসঙ্গী নিয়ে বিভিন্ন স্থানে গেছেন। কয়েকটি ইউনিট পরিদর্শনের পর তিনি একাই বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের আবাসনও পরিদর্শন করেছেন। সেখানে পরিবেশের অবস্থা দেখে পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিশুদের জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ডা. এম এ মুহিতের ভাষ্য, পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং মানুষের চিন্তাচেতনার পরিবর্তন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যাবে। তবে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়; এ জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রতি শনিবার এ ধরনের পরিদর্শন করবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময় ও সুযোগ পেলেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে যাবেন। শনিবারের পরিদর্শন নিয়মিত চর্চা হিসেবে অব্যাহত থাকতে পারে, তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।
সবশেষে ডা. এম এ মুহিত বলেন, একজন নেতা নিজের কাজের মাধ্যমে কীভাবে অন্যদের জন্য উদাহরণ তৈরি করেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শুধু নির্দেশনা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না; নিজেই কাজ শুরু করে অন্যদের উৎসাহিত করেন।
জ/শা