সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ খতিয়ে দেখবে সরকার

জবাবদিহি ডেস্ক

জাতীয়

2026-10-12T18:02:46+06:00
2026-10-12T18:02:46+06:00
মঙ্গলবার ● ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Advertisement
জাতীয়
সিনেমা হল বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ খতিয়ে দেখবে সরকার
জবাবদিহি ডেস্ক
⏲ ৬:০২ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬ | সোমবার
সংগৃহীত ছবি
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সিনেমা হলের আধুনিকায়ন এবং দর্শক ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। আজ সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতিসহ চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিনেমা হল মালিকদের সমস্যা ও দাবিগুলো জানতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, হল মালিকদের উত্থাপিত কিছু দাবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কিছু বিষয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এ অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, মোবাইল ফোন কিংবা হোম থিয়েটারের কারণে সিনেমা হল বিলুপ্ত হয়ে যাবে-এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। কারণ, সিনেমা হলে বড় পর্দায় একসঙ্গে চলচ্চিত্র উপভোগের অভিজ্ঞতা ঘরে বসে কিংবা মোবাইল ফোনের পর্দায় সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্স সফলভাবে চলছে। তাই বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো কেন টিকে থাকতে পারবে না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিনেমা হলের দর্শক বাড়াতে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের বিকল্প নেই। শুধু বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে চলচ্চিত্র আমদানি ও প্রদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিদেশি চলচ্চিত্র আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক থাকবে। তবে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয় এবং জনগণের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

দেশীয় চলচ্চিত্র রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বিদেশে প্রদর্শন ও রপ্তানির মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের কতটা দেশের জনগণ ও অর্থনীতির উপকারে আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দেশীয় চলচ্চিত্রের দর্শক সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক সিনেমা হলে পর্যাপ্ত দর্শক পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো সিঙ্গেল স্ক্রিনে বিপুলসংখ্যক আসনের বিপরীতে দর্শকের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে হল মালিক, প্রযোজক ও পরিচালকদের যৌথভাবে আলোচনা করে দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে প্রযোজক, হল মালিক ও দর্শক-সব পক্ষই উপকৃত হবে।

চলচ্চিত্রে দক্ষ শিল্পী তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও পরিচালকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাধ্যমে ‘প্রতিভার সন্ধানে’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ভবিষ্যতেও প্রতিভাবান শিল্পী উঠে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিনেমা হলগুলোতে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিএফডিসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক টিকেটিং ব্যবস্থা চালু হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি হল মালিকদের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসতে পারে। এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে হল মালিকদেরও আন্তরিক হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সিনেমা হলের আধুনিকায়নে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বরাদ্দের অর্থ শুধু সিনেপ্লেক্সের জন্য নয়, প্রচলিত সিনেমা হলগুলোর আধুনিকায়নেও কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দকে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখিতভাবে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। এসব দাবি পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দীন এলাহী চৌধুরীসহ সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা দেশের সিনেমা হলগুলোর সংকট, আধুনিকায়ন, অর্থায়ন, চলচ্চিত্র আমদানি-রপ্তানি এবং দর্শক বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

জ/উ


Advertisement
সর্বশেষ
‹ ›
যোগাযোগ  |   আমাদের পরিচয়  |   গোপনীয়তা নীতিমালা  |   ব্যবহারের শর্তাবলি  |   দায়মুক্তি  |   বিজ্ঞাপন নীতিমালা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত