নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির অধিকাংশ শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ সোমবার থাইল্যান্ডে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটির সঙ্গে একটি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট বা অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। চুক্তিটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, এর মধ্যেও বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আলোচনা এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে সংস্থাটির সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেও আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।
আইএমএফের শর্ত এবং দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংস্থাটির কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে শর্ত বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বা সময়ক্রম নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইএমএফের সঙ্গে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারণী আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। সেখানে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী, উন্নয়ন সহযোগীসহ ১৯১টি দেশের ১৫ হাজারের বেশি প্রতিনিধি।
জ/উ