কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযুক্ত হয়েছেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতা মফিজল হক। তবে তার দাবি, গরু চুরির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পারিবারিক ও পূর্ববিরোধের জের ধরে তাকে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।
মফিজল হক বলেন, তার বাড়িতে প্রায়ই কবুতর চুরির ঘটনা ঘটে। এ কারণে মাঝে মধ্যেই তিনি সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করেন। ঘটনার রাতেও একজনকে ধাওয়া করতে গিয়ে তিনি তাদের পুরোনো বাড়ির ভিটা পর্যন্ত যান। ওই পুরোনো বাড়ির ভিটা ওমর আলীর বাড়ির পাশেই এবং শফির বাড়ির কাছাকাছি।
পরে বাড়িতে ফেরার পথে শফির বাড়ির কাছে পৌঁছালে ওমর আলী তাকে ডাক দেন। তিনি দাঁড়ানোর পর ওমর আলী তাকে হেনস্তা করেন বলে দাবি করেন মফিজল।
তিনি বলেন, তার ছেলে আলমাছ আমার অনেক ভালো বন্ধু। ওই রাতে সে বাড়িতে ছিল না। থাকলে হয়তো ওমর চাচা এমন ঘটনা ঘটাতে পারতেন না। আমার পরিবারের সঙ্গে পূর্বের ঝগড়ার জেরেই আমাকে ফাঁসাতে চাইছেন তিনি। বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক।
নিজের পেশার কথা উল্লেখ করে মফিজল আরও বলেন, আমি রংমিস্ত্রির কাজ করি। আল্লাহর রহমতে ভালোই টাকা কামাই করি। আমার এসব করার প্রয়োজন কেন হবে?
মফিজলের মা হেনা খাতুন অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, ওমর আলী ও তার পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের কারণে আগের বসতভিটায় থাকতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাদের (ওমরের) জ্বালার কারণে আগের ভিটায় থাকতে পারিনি। এখন অন্য জায়গায় বাড়ি করেও তাদের জ্বালাতন শেষ হয়নি। হাঁস-মুরগিও পালন করতে পারিনি। এমনকি পথে বিছানোর ছালাও তারা চুরি করে নিয়ে যায়। একটি গাছ কাটা নিয়েও তাদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ রয়েছে। আমার ছেলের বিরুদ্ধে এর আগে কেউ এমন অভিযোগ তুলতে পারেনি।
অন্যদিকে, গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে মফিজল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢুসমারা থানায় অভিযোগ করেছেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল হোসেন। অন্য অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের ইনছাব আলীর ছেলে মফিজল হক, আব্দুর জলিল, সাকিব আলী ও ইনছাব আলী।
অভিযোগপত্রে দুলাল হোসেন উল্লেখ করেন, গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযুক্তরা তাদের বসতবাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে গোয়ালঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি তার বাবা টের পেয়ে বাইরে বের হলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মফিজল হককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মফিজল তার বাবার সঙ্গে জোর-জবরদস্তি করে তার হাতের আঙুলে আঘাত করে পালিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর সহযোগীদের নিয়ে এসে তার বাবাকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন দুলাল হোসেন।
তবে এ ঘটনার প্রধান সাক্ষী হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা শফির বক্তব্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওই রাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে দেখেন, ওমর আলী মফিজলকে ধরে রেখেছেন। তবে কেন তাকে ধরে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তখন তিনি জানতেন না। পরদিন সকালে নয়াচর বাজারে গিয়ে গরু চুরির অভিযোগে মফিজলকে আটক করা হয়েছিল বলে শুনেছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও জানান, মফিজলের বিরুদ্ধে এর আগে এ ধরনের চুরির অভিযোগ তারা শুনেননি। একজন ব্যক্তি একা একটি গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, এমন অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে, এর আগে চুরির চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদল মফিজল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়। একই সঙ্গে সংগঠনের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান শামীম আহমেদ বলেন, “তদন্তে গিয়ে তার বিরুদ্ধে গরু চুরির এমন গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে কিছুটা অমিল পেয়েছি।
প্রধান সাক্ষী বলছেন, গরু চুরির ঘটনা সম্পর্কে তিনি নাকি জানেনই না। অন্যদিকে, সেখানে তাদের পুরোনো বসত ভিটাও রয়েছে এবং বাড়িতে কবুতরও আছে। আরও তদন্ত বাকি আছে। সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে দলীয়ভাবে বসে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত বিষয়টি তদন্তাধীন।
জ/বা