গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে দেশের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জনমুখী করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সর্বদলীয় সংসদীয় দলের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার।
বৈঠকে কায়সার কামাল বলেন, প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব ও জনমুখী করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সময় কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশে গণতন্ত্র বহাল ছিল না। বর্তমানে জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চা চালু রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোও আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকের শুরুতে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানায়। এর জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে ও বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিবার কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা খোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। ডেপুটি স্পিকার এতে সম্মতি জানিয়ে বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে চালু হলে শিক্ষার মান বজায় রাখার স্বার্থে ব্রিটিশ শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে কায়সার কামাল বলেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের সদস্য ও মন্ত্রীদের মধ্যেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করা এবং সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সংসদীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। বৈঠক শেষে ডেপুটি স্পিকার ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জাতীয় সংসদ ভবন ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে ছিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আফসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের সর্বদলীয় সংসদীয় দলের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হোসেন। বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ