জুলাই আন্দোলন একদিনে সংঘটিত হয়নি। এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এসে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন, আহত এবং পারিবারিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ১১১ জনের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে যারা শহীদ ও নির্যাতিত হয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদেরও তালিকাভুক্ত করা জরুরি। তাদের দীর্ঘ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জুলাই আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল এবং স্বৈরশাসকের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে একজন মানবিক মানুষ উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু আশা প্রকাশ করেন, বিগত দিনে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিতদের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তাদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, লালমনিরহাটে চিহ্নিত শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করে ইতোমধ্যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং অনেকের চাকরির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সারা বাংলাদেশেই এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। বর্তমানে এর কারিগরি সমীক্ষা চলমান রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক মামলা প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ওই সময়ে দায়ের করা ভুয়া ও গায়েবি মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্যাতিতরা ইতোমধ্যে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জ/উ