ময়মনসিংহে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগবঞ্চিত ২২ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এর আগে কাফনের কাপড় পরে দিনভর অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। তবে অনশনে থাকা বাকি দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর ২০ প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে এতদিন তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর গতকাল বুধবার রাতেই ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। তাদের নিয়োগপত্র ইতোমধ্যে ডাকযোগে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানো হচ্ছে। তবে বাকি দুজনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় শূন্য পদের বিপরীতে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলায় ২৫৯ জন চূড়ান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অপর ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত ছিল।
নিয়োগ স্থগিত থাকা এসব প্রার্থী গতকাল বুধবার দিনভর ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন কর্মসূচি পালন করেন। পরে রাতেই তাদের মধ্যে ২০ জন নিয়োগপত্র পাওয়ার খবর আসে।
নিয়োগের চূড়ান্ত খবর পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বঞ্চিত প্রার্থীরা। তারা বলেন, কাঙ্ক্ষিত নিয়োগ পাওয়ার পর তাদের মনে হচ্ছে, ‘নতুন জীবন ফিরে পেলাম।’ এ সময় তারা সরকার ও সাংবাদিকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
তবে নিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের মধ্যে রয়েছেন গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর গ্রামের জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দল করি না, এমনকি আমার নামে কোনো মামলাও নেই। তারপরও কেন আমি নিয়োগপত্র পেলাম না, আমি তা জানি না।’
অন্যজন ধোবাউড়া সদরের মাশরুর হাসান। উপজেলা মেধাতালিকায় তিনি ২২তম হয়েছিলেন। তিনিও এখন পর্যন্ত তাকে নিয়োগপত্র না দেওয়ার কারণ জানেন না।
জ/উ