জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে-এমন খবর নাকচ করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধিদলটি নিউ ইয়র্ক ছেড়েছে এবং তাদের ফেরার সময়সূচি কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।
তবে গতকাল বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানি কূটনীতিকদের নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশন ইরানের মিশনকে রুবিওর ওই নির্দেশের বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলকে ‘অবিলম্বে’ নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করতে বলা হয়।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানি প্রতিনিধিদল তাদের অবস্থানের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ইতোমধ্যে পার করে ফেলেছিল। পাশাপাশি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের নিউ ইয়র্ক ছাড়ার সময় হয়েছিল।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল গত সোমবার সন্ধ্যাতেই নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করে। মিশনের ভাষ্য, প্রতিনিধিদলের এই সময়সূচি গত ১৭ সেপ্টেম্বরই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে জানানো হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউ ইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল-এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরানি মিশন আরও বলেছে, কোনো সাফল্য অর্জন করতে না পেরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখন ‘ভিত্তিহীন ও মূল্যহীন’ খবর প্রচারের পথ বেছে নিয়েছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটে নিউ ইয়র্ক থেকে দোহাগামী একটি বিমানে যাত্রা করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সোমবার সকালে হোয়াইট হাউস ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী ছিল। কিন্তু বিকেলের দিকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা সমঝোতার একটি প্রস্তাব নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
জ/উ