কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইকান্দি বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান মিজানসহ একাধিক মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে। আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে বড়াইকান্দি বাজারের ডিসি রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় একটি পুকুরে বস্তাবন্দী বাছুর ভাঁসতে দেখা গেলে, স্থানীয়রা পুকুর থেকে মৃতু বাছুরটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গর্ভবতী গাভিন গরু জবাই করার পর গর্ভের বাচ্চাটি দোকান ঘরের জানালা দিয়ে পেছনের পুকুরে ফেলে দিয়ে, মাংস বিক্রি করে আসার অভিযোগ মাংস বিক্রেতা (কসাই) মিজান মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয়রা বাছুরের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে হৈচৈ শুরু করলে অভিযুক্ত কসাইরা পালিয়ে যান। এসময় গরুর মাংস বাজারের, বিভিন্ন হোটেল, দোকান ও মানুষের কাছে বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। এর আগে থেকেই বরাররেই অসুস্থ, দুর্বল খাবার অযোগ্য গরু বিক্রিরও অভিযোগ উপজেলার অনেক মাংস বিক্রেতার বিরুদ্ধে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল মিয়া ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মজিদা খাতুন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে মাংসের দোকানের আশে পাশে ঘোরাফেরা করে। পরে মাংস বিক্রেতাদের সাথে দেখা করে চলে যান। আমাদের দাবী এসব গরু দিনের বেলায় জবাই করা হোক।
এমন ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের সহকারি কর্মকর্তারা। তবে তারা রহস্যজনক কারনে গরুর বাছুরের মৃতদেহ উদ্ধার না করে থলে সংরক্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগ রয়েছে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে কসাইদের গরু জবাইয়ের যাচাই-বাচাই করে সুস্থ গরু জবাই করার অনুমতি দেওয়ার কথা থাকলেও তা না করে স্থানীয় আইয়ুব আলী নামের একজন প্রশিক্ষণ বিহীন প্রাণী চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করার প্রত্যায়ন দিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত কসাই মিজানের সাথে কথা হলে তিনি প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন।
উপজেলা ভ্যাটেরিনারী সার্জন এর সহযোগী আইয়ুব আলী জানান, আমি পরীক্ষা নিরিক্ষা করেই গরু জবাই করার অনুমতি দেই।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ও ভ্যাটেরিনারী সার্জন ডা. রুবেল হোসাইন বলেন, রোগাক্রান্ত বা গর্ভবর্তী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এটা একটি অপরাধ। কসাইদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তকালীন সময় পর্যন্ত কোন দোকানে মাংশ বিক্রি করতে পারবে না মর্মে নোটিশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের পর অপরাধির প্রমাণ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী জানান, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, বিষয়টি জেনেছি এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ/বা